আমার পরিচয় | সুমাইয়া মীম

সহজ সরল জীবনযাপন কতটা কঠিন তাইনা? আসলে জীবনে চলার পথটাই ভীষণ কঠিন। আমি দুঃখ ছাড়া মানুষ দেখিনি কখোনো। শুনেছি পাগলরা নাকি সবচেয়ে সুখী মানুষ এই পৃথিবীতে। 

যদি তাই হয় পাগলরা পাগল হয় কি করে? যুক্তি দাড় করানো যেতে পারে পাগল হওয়ার পর সুখী হয়। এই যুক্তিটাও আমাদেরই মনগড়া। কারণ কেউ কি বলতে পারে, পাগলের কোন যন্ত্রণা নেই!

আমার পরিচয় | সুমাইয়া মীম

সুমাইয়া মীম
সুমাইয়া মীম

আমি সুমাইয়া আক্তার মীম। শিক্ষাগত যোগ্যতা কর্মদোষ ও মহামারীতে একদম তলানিতে। যেমন শ্যাম্পেইন তলানিতে গেলে কেউ আর খায়না বা শ্যাম্পেইন এর স্বাদের মৃত্যু হয়। তেমনি আমর শিক্ষাগত যোগ্যতার মৃত্যু হয়েছে।

আমি সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পাই। এই দোষ বা গুণ যাই বলি তা পেয়েছি আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধুর থেকে। তিনি আমার মা। পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র মুখের যিনি অধিকারি যার হাসি সবচেয়ে স্নিগ্ধ অনুভূতি জাগায়।

একারণেই আমি জীবনের লক্ষ্য স্থির করতে পারিনি। ভুল সিদ্ধান্ত নিতে নিতে পৃথিবীর নিষ্ঠুর নিয়মের কাছে আমরা হেরে যাই। 

শুনেছি "হোঁচট খাওয়া মানেই হেরে যাওয়া নয়।" তবে দূর্ভাগ্য নিয়ে জিতে যাওয়াও সহজ নয়। জীবনে জিতে যাওয়ার জন্য যেমন সংগ্রাম করতে হয় তেমনি হেরে যাওয়ার জন্য হোঁচট খেতে খেতে পাথর হতে হয়।

আমার শখ বইপড়া। আমি যে খুব পড়াকু তা নয়। তবে আমি ভীষণ পড়াকু হতে চাই। অনেক অনেক বুঝতে চাই, জানতে চাই। অনেকের শখ থাকে নিজস্ব লাইব্রেরীর। কিন্তু আমি চাই এলাকায় একটা বিশাল পাবলিক লাইব্রেরী হোক।

আমার পরিবারে কেউ তেমন শিক্ষিত নয়। একাডেমীক বইয়ের বাইরে যখন আমি বইপড়ি, না বুঝেই তারা অখুশি হয়। এতে আমি কষ্ট পাই কারণ আমি তাদের বুঝাতে ব্যর্থ। বইপড়ার অভ্যাস পেয়েছি আমার শ্রদ্ধেয় বাংলা শিক্ষক ননী গোপাল দাসের থেকে।

ক্লাসে যেমন ভালো বুঝাতেন, ভুলগুলো শুধরিয়ে দিতেন এবং তাঁর বইপড়ার অভিজ্ঞতা শুনাতেন। একদিন নিজেরও নেশার মতোই পেয়ে বসলো বইপড়া। যদিও আমার এত বই নেই। তবে অসংখ্য বইয়ের পিডিএফ রয়েছে তো ইন্টারনেটে।

প্রিয়কবি জীবনানন্দ দাশ, হেলাল হাফিজ স্যার গল্পকার বা ঔপন্যাসিক কে প্রিয় তা আমি বলতে পারিনা। আমার মনে হয় আমি পুরো সাহিত্যিক সমাজটাকেই খুব পছন্দ করি। শুধুমাত্র অশ্লীল যারা লেখেন সেসব স্কিপ করে যাওয়ায় উত্তম মনে হয়। 

তেমনি বইয়ের ক্ষেত্রে কোন বইটা যে অত্যধিক প্রিয় তা বলার সাধ্য আমার নেই। অনুবাদ সাহিত্য ও বিশেষভাবে পছন্দ করি। "সাধু গ্রেগরির দিনগুলি" ও "নুলিয়াছড়ির সোনার পাহাড় " কিশোর উপন্যাস পড়ার পর "শাহরিয়ার কবির" স্যারকে খুবই ভালো লাগে আমার। যদি কখোনো সুযোগ হয় ওনার সবগুলো সৃষ্টিকর্মগুলোর রস আস্বাদন করবো।

অল্প অল্প লেখার চেষ্টা করি। উন্নত নয় তবে তৃপ্তি পাই। কখোনো মনে হয় এই বুঝি লেখাটা একটু ভালো হলো। আমি বিশ্বাস করি আমিও একদিন সাহিত্যের সকল ধাপ রপ্ত করতে পারবো, লেখতে পারবো মনে রাখার মতো কিছু।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কিছু দিয়ে যেতে পারবো কিনা জানিনা। সকলের মতোই আমিও একই কথা বলবো, "হে ফুলেরা তোমরা নিজেকে রক্ষা করো, নিজেকে জানো, বোঝো আপনাকে যতটা চেনা প্রয়োজন ততটা চেনো। আপনার চাহিদা চাহিদা আপনি ছাড়া আর কে বুঝবে?"

Post a Comment