বাচ্চা না হলে কি করা উচিত ? (পরামর্শ )


বাচ্চা না হলে কি করা উচিত ? কেন বাচ্চা হয় না ? বাচ্চা না হওয়ার পেছনে কি কারণ রয়েছে ?

সন্তান না হওয়ার পেছনে কে দায়ি, মাতা নাকি পিতা? আমাদের সমাজ ব্যবস্থা মাতার দিকেই আঙ্গুল তুলে। কারণ নারী দূর্বল, নারীর ব্যক্তিত্ব সংসারের মায়াজালে বাঁধা।


এ অবস্থায় পিতা বা মাতা দুজনের যেকোনো একজন অথবা দুজনই দায়ি হতে পারে। কেননা শারীরিক সমস্যা উভয়েরই থাকা স্বাভাবিক।

তবে আমরা কেন নারীর দিকেই আঙ্গুল তুলি, আর কেনই বা বিশ শতাব্দীতে এসেও বহুবিবাহ প্রথাটাকে সাদরে গ্রহণ করি!

বাচ্চা না হলে কি করা উচিত  ? (পরামর্শ )

বাচ্চা না হলে কি করা উচিত


একজন নারী বন্ধ্যা হলে সেটা তো তার দোষ না। দোষ তার ভাগ্যের। তাই বলেই তো তাকে ছুড়ে ফেলার অধিকার নেই কারোর। 

এরকমভাবে একজন পুরুষও সমস্যায় জর্জরিত হলে তাকে হেয় করা উচিৎ নয়। মহান আল্লাহ তালা না চাইলে কিছুই হবেনা।

একজন মেয়ের মা হওয়া স্বপ্ন তেমনই, যেমন একজন পুরুষের বাবা হওয়ার। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও সন্তানের প্রতি আগ্রহী। 

কিন্তু পড়াশোনা আর ক্যারিয়ার গড়ে সেটেলড হতে হতেই যদি বয়স ওভার হয়ে যায় তাহলে সমস্যা।

এছাড়াও বয়সের সাথে সাথে রোগের পরিমাণ ও বেড়ে যেতে থাকে যা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়না। ভেতরে জটিল রোগের কারণে শুক্রাণু শক্তিশালী হয়না বা যেকোনো কারণে মেয়েরা কনসিভ করতে পারেনা।

এরকম অবস্থায় একে অপরকে দোষ না দিয়ে বা সংসার বিচ্ছেদ না করে সমাধান এর উপায় খোঁজা উচিৎ। একে অপরের পাশে থেকে চিকিৎসা গ্রহণে সমস্যার সমাধান হয়ে যেতেও পারে।

কিন্তু এক্ষেত্রে আমাদের সমাজে হয়ে থাকে, মেয়েরই সমস্যা আছে বারবার তাকে ডাক্তার দেখিয়ে, টেস্ট করানো হয়, চিকিৎসা দেওয়া হয় কিন্তু ফলাফল শূন্য।

যদি একজন পুরুষের ডায়াবেটিস থাকে আর সেটি কন্ট্রোলে না থাকে তবে সে কিছুতেই বাবা হতে পারবেনা। 

কারণ এসব পুরুষের বীর্যে শুক্রাণুর পরিমাণ খুবই কম থাকে। একজন স্বাভাবিক সুস্থ মানুষের বীর্যে শুক্রকীট ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন এমএল থাকে যা শক্তিশালী এবং অধিকমাত্রায় নড়াচড়া করে। 

কিন্তু একজন ডায়াবেটিস রোগীর বীর্যে শুক্রকীট ২ মিলিয়ন থাকতে পারে যা অতি দূর্বল। এবং এদের নড়াচড়া কম আকৃতি ও অস্বাভাবিক হয়ে থাকে। বা এমন না হয়ে নারীর কোন সমস্যা।

সন্তান না হলে কি সংসার ভেঙ্গে দেওয়া উচিৎ 

কখনোই না। এসময় স্বামী-স্ত্রী কে দুজন দুজনের ঢাল হতে হবে। সমাজের মানুষের কথায় কিছু যায় আসেনা। পরিবারকে বুঝিয়ে বলতে হবে তাদের সাপোর্ট চাইতে হবে। যদি ডায়াবেটিস থাকে সেটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যথাসম্ভব চেষ্টা করতে হবে।

আমাদের প্রচলিত ধারণার একটি হচ্ছে, বেবি হওয়ার ক্ষেত্রে স্ত্রীই প্রধান সমস্যা। কিন্তু মেডিক্যাল সায়েন্স শতকরা ৩০-৪০ ভাগ ক্ষেত্রে পুরুষের শুক্রাণুর সমস্যার জন্যও বাচ্চা হতে সমস্যা হয়।

মেয়েরা অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হন। স্বামীর এসব সমস্যা থাকা সত্ত্বেও দ্বিতীয় বিয়ে করেন কিংবা হুমকি দেন। কিন্তু এই ধারণা বদলাতে হবে। 

স্বামী-স্ত্রী দু'জনেরই সমস্যা থাকতে পারে এটা বুঝতে হবে। স্বামীর শুক্রাণুতে সমস্যা থাকলে চিকিৎসা করাতে হবে। আজকাল অনেক ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি যুক্ত হয়েছে। 

মুখে আবার ওষুধের সাথে সাথে অন্য চিকিৎসাও আছে। একেবারে কোনো কিছুতে কাজ না হলে টেস্ট টিউব বেবি শেষ ভরসা হিসেবে হলেও আজকাল উন্নতমান ও পদ্ধতি ব্যবহার হচ্ছে বলে সফলতার হার বেড়েছে। 

সবচেয়ে সুখের কথা হলো, আমাদের দেশেই এখন এসব চিকিৎসা হচ্ছে। আপনাদের আর বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। 

তবে বেবি হওয়ার সমস্যা হলে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি কিছু চিকিৎসা নেবেন। স্ত্রীর বয়স বেশির দিকে হলে ডিম্বাণুর কার্যক্ষমতা কমে যায়। স্বামীর ক্ষেত্রেও বয়স একটি ব্যাপার। 

তারপরও যদি কোনো সমস্যা থাকে শুক্রাণুতে (Sperm), সেটি দিন দিন খারাপ হতে থাকে। এজন্য অতিদ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই উত্তম।


Source:


Next Post Previous Post