ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা বাড়ানোর উপায়

ইংরেজির গতবাধা নিয়ম আর ভোকাবুলারির (শব্দভান্ডার) লম্বা ফর্মের বাংলা অর্থ মুখস্থ করেও আপনি ইংরেজিতে দুর্বল হতেই পারেন। অর্থাৎ আপনি দীর্ঘদিন ধরে ইংরেজি শেখার জন্য যে চেষ্টা করছেন, তা পণ্ডশ্রম ছাড়া কিছু নয়। 

আমরা ভুলে যাই—ইংরেজি একটা ভাষা। একটি ভাষাকে এর ব্যবহারিক দিক বিবেচনা করে শিখতে হবে কিছু যৌক্তিক পদ্ধতিতে; যা সময়সাপেক্ষ ও পরিশ্রমনির্ভর; কিন্তু নিশ্চিতভাবে কার্যকর।

একটি গান যখন আমরা দিনের পর দিন শুনি, তখন স্বভাবতই এর কয়েকটি লাইন অবচেতনে আমাদের মাথায় গেঁথে যায়। গানটি বিদেশি ভাষার হলেও। ইংরেজি বা যেকোনো ভাষা শিক্ষার ব্যাপারটাও ঠিক তেমন। 

আপনি যত ‘শুনবেন' (লিসেনিং), ‘পড়বেন' (রিডিং), 'দেখবেন' (অবসারভেশন বা রিপিটেশন), আর চর্চা করবেন আপনার দক্ষতা ততই বাড়বে।

ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা বাড়ানোর উপায়

ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা বাড়ানোর উপায়
ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা বাড়ানোর উপায়

কৌশল নম্বর ১ : 

প্রথমত, আপনাকে প্রচুর পড়তে ও শুনতে হবে। শুরুতে ইংরেজি গল্পের শিশু সংস্করণ (যদি মনে করেন আপনার দক্ষতা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের) পড়তে পারেন। 

ধীরে ধীরে ছোটগল্প, ইংরেজি পত্রিকা ও উপন্যাস পড়া শুরু করুন। কার্টুন, সিনেমা, গান ইত্যাদির মাধ্যমে ইংরেজি শোনার চর্চা করুন। কতটুকু বুঝতে পারছেন, তাতে কিছু যায় আসে না। শুনে যেতে হবে, আর সঙ্গে পড়ার অভ্যাস গড়তে হবে। 

এতে তাৎক্ষণিক কোনো ফল আসবে না, কিন্তু মাসের পর মাস এটা করতে থাকলে আপনি নিজেই উপলব্ধি করবেন, আপনার ইংরেজি বোঝা ও বলার দক্ষতা বাড়ছে। প্রচুর শুনলে ও বললেই আপনি ভালো লিখতে পারবেন। তবে বলার দক্ষতা অর্জনের জন্য আপনাকে কারও সঙ্গে কথা বলার চর্চা চালিয়ে যেতে হবে।

ইংরেজি বোঝেন না বলে অনেকে ইংরেজি ছবি দেখেন না। কিন্তু ইংরেজি ছবি কিন্তু আপনাকে ভাষাটা শিখতে সাহায্য করবে। একই সিনেমা দুইবার দেখুন। প্রথমে সাবটাইটেলসহ, এরপর সাবটাইটেল ছাড়া। দ্বিতীয়বার দেখার সময় সিনেমার বিষয় ও সংলাপ বুঝতে আপনার প্রথমবারের অভিজ্ঞতা কাজে আসবে।

কৌশল নম্বর  ২ : 

ইংরেজি ভাষাবিষয়ক ভালো মানের বই পড়তে পারেন। কিন্তু কোনো গতানুগতিক ব্যাকরণের বই নয়। বিজ্ঞাপনের চটকদার ভাষা, যেমন শটগান কোর্স, ম্যাজিক বুক, ২০ দিন-২১ দিনে ইংরেজি শিখুন, এসব থেকে ১০০ হাত দূরে থাকুন। 

তাহলে ভালো বই চেনার উপায় কী? আপনি দেখবেন—বইটি কোন ধরনের শিক্ষার্থীদের জন্য লেখা (যেমন অনেক বইয়ে লেখা থাকে: ল্যাঙ্গুয়েজ লেভেল-বিগিনার বা ইন্টারমিডিয়েট) এতে ইংরেজির কোন বিষয়ের ওপর ধারণা দেওয়া আছে, লেখকের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা কী ইত্যাদি।

একটি চমৎকার বই হচ্ছে এসেনশিয়াল গ্রামার ইন ইউজ বাই রেমন্ড মারফি। ইংরেজি গ্রামারের দুর্বলতা দূর করতে এই বই বেশ কাজের। পুরোটাই ইংরেজিতে লেখা। তাতে ভড়কে না গিয়ে বরং বইয়ে দেওয়া অনুশীলনগুলো করতে থাকুন।

কৌশল নম্বর ৩ : 

আপনার হয়তো ইংরেজি ব্যাকরণে দখল আছে, ভালো লিখতেও পারেন। কিন্তু বলতে পারেন না। এর একটাই কারণ-চর্চার অভাবের কারণে আপনি ইংরেজি বলতে সংকোচ বোধ করেন। ইংরেজি বলার জন্য আপনাকে চর্চা করতেই হবে। 

এই ক্ষেত্রে একজন সঙ্গী জোগাড় করে নিতে হবে, যিনি আপনার মতোই ইংরেজি চর্চায় আগ্রহী। আপনি কথা না বলতে চাইলে কোনো অলৌকিক পদ্ধতি বা কোর্স নেই, যা আপনাকে 'স্পিকিং' শেখাবে।

৪. ইংরেজি পত্রিকা ও অন্যান্য বই পড়ার অভ্যাস না করলে কখনোই খুব ভালো ইংরেজি শিখতে পারবেন না। তবে কেবল ইংরেজি পত্রিকা পড়লেও চলবে। 

আপনার ভাষার দক্ষতা ভালো, মোটামুটি কথা বলতে পারেন, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে শব্দ খুঁজে পান না। এই ক্ষেত্রে একমাত্র পত্রিকা পড়ার অভ্যাসই আপনাকে রক্ষা করতে পারে। সঙ্গে গল্পের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুললে আরও ভালো।

শিশু কীভাবে ভাষা শেখে?

ইংরেজি কীভাবে শিখব বোঝার আগে ছেলেবেলায় আমরা নিজের ভাষাটা কীভাবে রপ্ত করেছি, সেটা একটু জেনে নেওয়া যাক। 

১. তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও পুনরাবৃত্তি : 

বড়দের বলা শব্দ নকল করা শিশুদের ভাষা শিক্ষার অন্যতম কৌশল। প্রথমে এক সিলেবলের শব্দ দিয়ে শুরু হয়। যেমন না, দে, খা ইত্যাদি। তারপর দুটি—থাবা, বাবা, যাবা। এরপর শিশুরা ছোট ছোট বাক্য রচনা করে। 

২. শ্রবণ: 

শিশুরা প্রতিনিয়ত অবচেতন মনে অনেক শব্দ শোনে, যেগুলো একটু একটু করে তার মস্তিষ্কে জায়গা করে নেয়। একটা সময় পর সে মনের অজান্তেই কিছু শব্দ ও বাক্য বলতে পারে। 

৩. বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা : 

ইংরেজি ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই একটি শব্দ ব্যবহার করি– Schemata, অর্থাৎ মস্তিষ্কে সংরক্ষিত আগের অভিজ্ঞতা (এটি ছোট-বড় সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)। 

বড়দের চলাফেরা বা কোনো কিছুর ব্যবহার নিয়মিত দেখে-শুনে শিশুরা শেখে। যেমন আপনি চেয়ারে বসছেন। বসার জন্য একটি শব্দ ব্যবহার করছেন, আবার যেখানে বসছেন, সেটির জন্য একটি শব্দ ব্যবহার করছেন। শিশু এই বিষয়গুলো খেয়াল করে। পরে তা নিজেও বলতে পারে। যেগুলো সে নিজে থেকে মনে করে বলতে পারে, সেগুলো তার স্কেমাটার অংশ।

ছোটদের ভাষা শেখার কৌশল (ফার্স্ট ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যাকুইজিশন থিওরি) ব্যবহার করেও কিন্তু আমরা ইংরেজি শিখতে পারি। তবে সে ক্ষেত্রে কৌশল একটু বদলাতে হবে।

Next Post Previous Post