রঙিন সবজি গাজরের পুষ্টিগুণ

দেখতে চমৎকার ও সহজলভ্য শীতকালীন সবজি গাজর। যা আমরা কাঁচা ও রান্না করে উভয়ভাবেই খেতে পারি। অথচ আমরা অনেকে জানি না যে, এটা কত উপকারী ও পুষ্টিসমৃদ্ধ। 

রঙিন সবজি গাজরের পুষ্টিগুণ 

গাজরের পুষ্টিগুণ


গাজর কাঁচা ও রান্না দুইভাবে খাওয়া যায়। গাজর স্বাদে সামান্য মিষ্টি। গবেষকেরা পর্যবেক্ষণ করেছেন, গাজর শুধু নানাবিধ পুষ্টি সরবরাহ করে তাই নয়, অনেক জটিল রোগ প্রতিরোধ করে। 

Antioxidant গবেষক Dr. Johanson বলেন, গাজরকে আমরা উপেক্ষা করি। কিন্তু এর পুষ্টিগুণের কথা বলে শেষ করা যাবে না। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ বিদ্যমান রয়েছে । গাজরে থাকে Beta carrotonoid, যা স্বাস্থের জন্য খুবই উপকারী।


আরও পড়ুন... কানের শোঁ শোঁ আওয়াজ বা টিনিটাস এ করণীয়


গাজরের পুষ্টিগুণ 

রঙিন গাজর প্রথম দিকে ওষুধ হিসেবে চাষ করা হতো। এটা মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চাষ করা হয়। সেখানে তারা গাজর ছাড়া কোনো খাবারই চিন্তা করতে পারে না। তাদের গায়ের রঙ ও গাজরের মতো সুন্দর। 

গাজরের পুষ্টিগুণ


গাজরের পাতাও শাক হিসেবে খাওয়া যায়। গাজরে রয়েছে.

  1. Cellery, 
  2. Fenel, 
  3. Parsnip, 
  4. Dill and 
  5. Parsely. 

গাজর লাল, সাদা ও হলুদ হয়। তারপর ধীরে ধীরে কমলা রঙ ধারণ করে। ডাচরাও প্রচুর গাজর চাষ করে এবং কাঁচা খায়। 

Carrot শব্দটি এসেছে গ্রিক থেকে। যার অর্থ Horn Like কচি হর্নের মতো দেখতে ।

  • গাজরে প্রচুর ভিটামিন 'কে' রয়েছে। 
  • একটা মধ্যম সাইজের গাজরে ২৫ ক্যালরি থাকে। 
  • গাজরে পাওয়া যায় 1.7Gm ফাইবার, পটাশিয়াম 196 Gm এবং অন্যান্য পুষ্টি। 
  • গাজরের আঁশে রয়েছে Pectin, যা কোলেস্টেরল কমায়। 
  • গাজর ভিটামিন 'এ' এর জন্য বিখ্যাত। 
  • Beta carrotonoid- ভিটামিন থাকে। 
  • চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে। 
  • যেসব লোক বেশি বেশি কাঁচা গাজর খায় তারা গ্লুকোমা প্রতিরোধ করতে পারে এবং 
  • গাজরে উপস্থিত পুষ্টিমান চোখের ছানি তৈরিতেও বাধা দেয়।


হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় গাজর

গাজরের পুষ্টিগুণ


হৃদরোগ প্রতিরোধে যত খাদ্য আছে, তার মধ্যে গাজর সর্বশ্রেষ্ঠ। ব্রিটিশ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, গাঢ় কমলা রঙের যত ফল হৃদরোগ প্রতিরোধে সক্ষম তার মধ্যে গাজর হলো সর্বশ্রেষ্ঠ। 

গাজর করোনারি হার্ট ডিজিজ প্রতিরোধকারী। যারা দৈনিক ৯ ইঞ্চি লম্বা একটা মধ্যম আকারের গাজর খায়, তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি সবচেয়ে কম।

একদল Phytonutriets গবেষণা করে এর ভেতর Poycetylenes নামক এক প্রকার উপাদান পেয়েছে এবং এর সাথে রয়েছে Compound falcvarionol and falcariodol, যা হৃদরোগ প্রতিরোধ করে। 

এসব উপাদান দেহের হরেক রকম জ্বালা-যন্ত্রণা প্রশমিত করে। রক্ত জমাটবদ্ধ হতে দেয় না। অপর গবেষকদল বলছে, গাজর ক্যান্সার Cell তৈরিতে বাধা দেয়।


গাজর প্রস্তুত পদ্ধতি 

যারা গাজর খেতে শুরু করবেন তারা মনে রাখবেন, অর্গানিক গাজর কিনে কোনো বড়ি বানানোর প্রয়োজন নেই। 

কিন্তু আরেক দল বলছে, বড়ি বানিয়ে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। অন্য এক দল বলছে, গাজর সেদ্ধ করে বেটে খেলে বেশি উপকার হয়। এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। 

আবার কেউ বলছে গাজরের জুস বা নির্যাস খেলে বেশি উপকার হয়। চিবিয়ে খেলে বেশি উপকার হয়। চিবিয়ে না খেয়ে নির্যাস খাওয়া ভালো। এখন কথা হলো-কাঁচা নাকি রান্না গাজর খওয়া ভালো। 

একদল বলছে রান্না করলে গাজরের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়। ভিটামিন 'সি' থাকে না। অথচ ভিটামিন 'সি' T আমাদের শরীরের জন্য বেশি দরকার। তবে বেশির ভাগ গবেষক গাজর কাঁচা চিবিয়ে খেতে পরামর্শ দেন।


গাজর খাওয়ার নিয়ম 

গাজরের পুষ্টিগুণ


হ্যাঁ, অবশ্যই আছে । গাজর কেনার সময় উজ্জ্বল কমলা রঙের লম্ব গাজর বেছে নিতে হবে। মোটা গাজর অপেক্ষা লম্বা গাজর ভালো। 

মোটা গাজরে শর্করা বেশি থকে। ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য অপকারী। গাজর দুই সপ্তাহ পর্যন্ত ফ্রিজে রেখে খাওয়া চলে। তবে সর্বাপেক্ষা ঠাণ্ডায় রাখতে হবে। 

ফ্রিজে রাখার সময় প্রতিটি গাজর পলিথিনে মুড়ে রাখতে হবে। ফ্রিজে অন্যান্য ফলের সাথে বা খাবারের সাথে রাখা যাবে না। ফ্রিজ থেকে বের করে খাওয়ার আগে বিশুদ্ধ পানিতে ধুয়ে নিতে হবে।

তথ্য উৎস


Related Question...

গাজরে কোন ভিটামিন বেশি থাকে
প্রতিদিন গাজর খাওয়ার উপকারিতা
গাজর খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
গাজরের পুষ্টিগুণ
কাঁচা গাজর খাওয়ার উপকারিতা
গাজর খাওয়ার নিয়ম

*

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post