লুইজি গ্যালভানি (Luigi Galvani)

প্রায় দুশো বছর আগে ইতালিতে এক শারীরবিদ্যার অধ্যাপককে লোকে ব্যাং-নাচানো অধ্যাপক বলে ঠাট্টা করতে শুরু করেছিল। সে এক মজার ব্যাপার। লুইজি গ্যালভানি নামে এই অধ্যাপক আসলে একটা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করছিলেন তখন। 

 লুইজি গ্যালভানি (Luigi Galvani)

লুইজি গ্যালভানি (Luigi Galvani)
লুইজি গ্যালভানি (Luigi Galvani)

লুইজি গ্যালভানি শারীরবিদ্যার অধ্যাপক। শুধু মানুষের নয়, অন্য প্রাণীর দেহের মাংসপেশি নিয়ে নানারকম পরীক্ষা করার নেশায় তিনি মেতে উঠেছিলেন। 

একদিন একটা মরা ব্যাঙের পা ছুরি দিয়ে কাটার জন্যে প্রস্তুত হচ্ছিলেন গ্যালভানি। ঠিক সেইসময় তাঁর এক সহকারী একটা তামার তারের মতো যন্ত্র দিয়ে ব্যাংটাকে স্পর্শ করতেই ব্যাংটা যেন লাফিয়ে উঠল। 

ওই তামার তারটা ছিল বৈদ্যুতিক তার। চমকে উঠলেন গ্যালভানি। এবার তিনিও ওই ধাতুর তার দিয়ে ছুঁলেন ব্যাঙটিকে। আবার লাফিয়ে উঠল মরা ব্যাং। 

গ্যালভানি অনেকবার এরকম ব্যাং লাফানো দেখলেন। কিন্তু কারণটা তখনও ঠিক ধরতে পারলেন না। পরে এটাই তাঁর একটা খেলা হয়ে দাঁড়াল। 


কিন্তু খেলা তো নয়, আসলে তিনি বুঝেছিলেন যে বৈদ্যুতিক তার ব্যাঙের পেশির উপর কাজ করছে। যাই হোক, লোকে তো আর এতসব বোঝেনি। তাই তারা মজা করে বলত ব্যাং-নাচানো অধ্যাপক

লুইজি গ্যালভানি (Luigi Galvani)
১৭৮০ -এর দশকে গালভানি ব্যাঙের পায়ে পরিচালিত একটি পরীক্ষার চিত্র। ব্যাঙের পায়ে গালভানির পরীক্ষার ১৭৮০ -এর দশকের শেষের চিত্র। (Image: Luigi Galvani/Public domain)


ইতালির বলোনিয়া প্রদেশে ১৭৩৭ সালে জন্ম হয় লুইজি গ্যালভানির। ছেলেবেলা থেকেই তাঁর ইচ্ছে ছিল চার্চের যাজক হবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হলেন শারীরবিজ্ঞানী। 

১৭৫৯ সালে বলোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতক হলেন। আর ওখানেই ১৭৬৬ সালে শারীরবিদ্যার অধ্যাপক হলেন। মানুষের মাংসপেশির উপর বিদ্যুতের ক্রিয়া কেমন, মাংসপেশির সঙ্গে বিদ্যুতের সম্পর্কই বা কী- এই ছিল তাঁর সারা জীবনের গবেষণা। 

ব্যাঙের মাংসপেশিতে বিদ্যুতের ক্রিয়া বোঝার যখন চেষ্টা করছিলেন তিনি, তখন আরও একটা কথা একদিন তাঁর মনে হল আকাশের বিদ্যুৎ কি ব্যাংটাকে নাচাবে? যেই ভাবনা, সেই কাজ !

এক ঝড়বৃষ্টির রাতে তিনি একটা মরা ব্যাংকে একটা পিতলের আংটা দিয়ে একটা লোহার রেলিঙের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখলেন। প্রতিবার বিদ্যুৎ ঝলসে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ওই ব্যাং নেচে উঠল। 

গ্যালভানির পরীক্ষা অনেকটাই সফল হল। তিনি বুঝতে পারলেন যে, ব্যাঙের পেশির ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হচ্ছে। এভাবেই প্রাণীদেহের পেশি ও নার্ভের সঙ্গে বিদ্যুতের সম্পর্ক আবিষ্কার করে ফেললেন গ্যালভানি।

লুইজি গ্যালভানি (Luigi Galvani)
(Image: Luigi Galvani/Public domain)


১৭৯১ সালে গ্যালভানি তাঁর এই গবেষণার কথা লিখে প্রকাশ করলেন। পরে অন্য বিজ্ঞানীরা এই নিয়ে আরও নানা পরীক্ষা করেন। বিশেষ করে একজনের নাম মনে রাখা খুব দরকার। 

তিনি গ্যালভানিরই দেশের এক বিজ্ঞানী, নাম ভোলটা। এভাবে, মূলত একজন শারীরবিজ্ঞানী হয়েও গ্যালভানি গবেষণা করেছিলেন বিদ্যুৎ নিয়ে। প্রাণীর পেশিতে বিদ্যুতের ক্রিয়া কেমন তা নিয়ে তাঁর আবিষ্কার অন্য বিজ্ঞানীদের পথ দেখিয়েছে।

গ্যালভানি মাত্র একষট্টি বছর বেঁচেছিলেন। ১৭৯৮ সালে তাঁর যখন মৃত্যু হয় তখনও লোকে তাঁর বিরাট কৃতিত্বের কথা সবটা বোঝেনি। বুঝেছে অনেক পরে। আর সেই জন্যেই বিদ্যুৎপ্রবাহ মাপার একটা যন্ত্রের নামই দেয়া হয় তাঁর নামে- গ্যালভানোমিটার


Source:

Post a Comment

0 Comments