হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা ৮ম শ্রেণির ১৪তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান

হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা ৮ম শ্রেণির ১৪তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট নমুনা সমাধান নিয়ে বরাবরের মত হাজির হয়েছি । মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে গত ৩২/০৮/২০২১ ইং তারিখে ১৪তম সপ্তাহের জন্য এসাইনমেন্ট প্রশ্ন প্রকাশ করা হয় । ১৪তম অ্যাসাইনমেন্ট PDF Download করতে এখানে ক্লিক করুন । 

হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা ৮ম শ্রেণির ১৪তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান

হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা ৮ম শ্রেণির ১৪তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান
হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা ৮ম শ্রেণির ১৪তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান

Class 8 Islam and Moral Studies 14th week assignment answer

হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা ৮ম শ্রেণির ১৪তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান
হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা ৮ম শ্রেণির ১৪তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট

কৃষি শিক্ষা ৮ম শ্রেণির ১৪তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান


অধ্যায় ও অধ্যায়ের শিরােনাম 

তৃতীয় অধ্যায়ঃ প্রথম পরিচ্ছেদ: হিন্দু ধর্মের স্বরূপ

পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত পাঠ নম্বর ও বিষয়বস্তু
পাঠ-১: হিন্দু ধর্মের সাধারণ লক্ষণ। 
পাঠ-২: হিন্দু ধর্মের বিশেষ লক্ষণ 
পাঠ-৩: হিন্দু ধর্মের ক্রমবিকাশ

অ্যাসাইনমেন্ট বা নির্ধারিত কাজ

মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে মিল রেখে হিন্দু ধর্মাচারণের ধারাবাহিক পরিবর্তনের উপর একটি টাইমলাইন প্রস্তুত করাে।


নির্দেশনা
  1. শিক্ষার্থী হিন্দুধর্মের প্রধান প্রধান যুগগুলি চিহ্নিত করবে।
  2. যুগের বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করবে এবং বুলেট পয়েন্টে লিখবে। 
  3. প্রতিটি যুগের যুগ পুরুষ ও তাদের বৈশিষ্ট্য লিপিবদ্ধ করবে। 
  4.  অ্যাসাইনমেন্ট প্রণয়নে পাঠ্যপুস্তকের বাইরে থেকে তথ্য সংগ্রহ করা যাবে।

হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক ৮ম শ্রেণির ১৪তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান


হিন্দুধর্মের ক্রমবিকাশ ভারতবর্ষে মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশের সঙ্গে - সঙ্গে সনাতন তথা হিন্দুধর্মের বিকাশ শুরু হয়েছে। চিন্তাশীল মুনি-ঋষিগণ মানুষের কল্যাণ চিন্তায় , ধর্মীয় আচার - আচরণে এমনকি পারমার্থিক চিন্তায় নতুন -নতুন ধর্মীয় ভাব প্রবর্তন করেছেন। 

বৈদিক যুগে ধর্ম-কর্ম পালিত হতাে যজ্ঞকর্মরূপে। যজ্ঞক্রিয়ার মধ্য । দিয়ে তখন দেবতাদের আরাধনা করা হতাে। যজ্ঞকর্মের ফলে স্বর্গপ্রাপ্তি হতে , কিন্তু মানুষের মুক্তিলাভ হতাে। তাই বেদের পরে উপনিষদের যুগে মুক্তির চিন্তা প্রাধান্য পায়। 

মানুষ মুক্তিলাভের জন্য এক ব্রহ্মের আরাধনা করতে থাকে। এ সময় সমাজ-সংসার ত্যাগ করে সন্ন্যাস গ্রহণের প্রবণতা দেখা দেয়। কালক্রমে এ চিন্তার মধ্যেও মানুষ যেন সন্তুষ্ট হতে পারল না। এ অবস্থায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে।তখন ছিল দ্বাপর যুগ। 

সমাজ - জীবনে সন্ন্যাসের পরিবর্তে কর্মের দিকে মােড় ফেরানাে হলাে। তিনি ব্যাখ্যা করে। বললেন-কর্মত্যাগ নয়, কর্ম করতে হবে ভােগের আকাঙক্ষা বাদ দিয়ে। মনে করতে হবে সমস্ত জগৎ ভগবানের কর্মক্ষেত্র। এখানে মানুষ ভগবানেরই কর্ম করে যাচ্ছে এবং কর্মের ফলও ভগবানেরই প্রাপ্য।

শ্রীমদ্ভগবদগীতায় এই নিষ্কাম কর্মযােগের বিষয়টি বলিষ্ঠভাবে তুলে ধরা হয়েছে। কর্মযােগ অনুশীলন করে মানুষ মুক্তিলাভ করতে পারে। এরপর আসে ভক্তিবাদের কথা। মানুষ ভক্তিভরে ঈশ্বরকে সাকারে উপাসনা করতে থাকে। 

বহু দেব - দেবীর পূজা - পার্বণ হিন্দু সমাজে প্রচলিত হয়। এর ফলে অবশ্য ভিন্ন ভিন্ন দেব - দেবীর উপাসকগণ ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত হয়ে পড়েন, যেমন- শাক্ত, শৈব, বৈষ্ণব ইত্যাদি। এই সম্প্রদায়গুলাের মধ্যে অসহিষ্ণু ভাব দেখা দেয়। এরূপ অবস্থায় শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাব ঘটে । 

তিনি প্রেমভক্তিমূলক বৈষ্ণবধর্ম প্রচার করেন। এ ধর্মের প্রধান লক্ষ্য ভক্তির মাধ্যমে ভগবানের আরাধনা করা । সমাজে বর্ণভেদ দূর করা ও শান্তি স্থাপন করা।

উনবিংশ শতকে হিন্দুধর্মের অনেক আচার - আচরণে সংস্কার সাধন করা হয়। মূর্তিপূজার পরিবর্তে আসে এক ব্ৰহ্মচিন্তা। স্থাপিত হয় ব্রাহ্মসমাজ। অপরদিকে মূর্তিপূজার মাধ্যমেও যে মানুষ ঈশ্বরলাভ করতে পারে , এ ধারণাটি শ্রীরামকৃষ্ণের সাধনায় সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। 

শ্রীরামকৃষ্ণ ও তাঁর শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দের প্রচেষ্টায় হিন্দুধর্মে পুরাতন ও নতুন চিন্তাধারার সমন্বয় ঘটে। সংক্ষেপে বলা যায় –হিন্দুধর্মের বিকাশ ঘটেছে বৈদিক যুগে যজ্ঞকর্মে, বেদান্তের ব্রহ্মসাধনায় , পৌরাণিক যুগে দেব- দেবীর উপাসনায় , দ্বাপর যুগে শ্রীকৃষ্ণের কর্মযােগে , মধ্যযুগে শ্রীচৈতন্যের ভক্তিভাবনায় , আর আধুনিক কালে শ্রীরামকৃষ্ণের সর্বধর্ম সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে।

ভগবান সর্বশক্তিমান। তাঁর ভাব অনন্ত। তাকে পাওয়ার পথও বিচিত্র। সাধনপথে যে - কোনাে প্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে। মনে রাখতে হবে, মানবের কল্যাণের জন্যই ধর্ম এসেছে। ধর্মাচরণে মানব কল্যাণকে অবশ্যই প্রাধান্য দিতে হবে। 

মানুষের মধ্যেই ঈশ্বর রয়েছেন, তাই মানবসেবাই ঈশ্বরসেবা। এই ধর্মবােধে বিশ্বাসী হয়ে আমরা জীবনে সেবাধর্মের অনুশীলন করব এবং মানবতাবােধ জাগ্রত করতে যত্নবান হব।

কৃষি শিক্ষা ৮ম শ্রেণির ১৪তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান

Conclusion:

এই ছিল ৮ম শ্রেণির ১৪তম সপ্তাহের হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা অ্যাসাইনমেন্ট এর নমুনা সমাধান । আশা করি শিক্ষার্থীরা উপরোক্ত আলোচনা থেকে সমাধান করার ধারনা পাবে ।
Last Line: হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা ৮ম শ্রেণির ১৪তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান

Post a Comment

0 Comments