প্রাচীন বাংলার মানচিত্রে জনপদসমূহ চিহ্নিত করে সেখানকার ভৌগলিক অবস্থার প্রেক্ষিতে জনপদ গড়ে উঠার কারণ

প্রাচীন বাংলার মানচিত্রে জনপদসমূহ চিহ্নিত করে সেখানকার ভৌগলিক অবস্থার প্রেক্ষিতে জনপদ গড়ে উঠার কারণ সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন লিখ; (১৫০-২০০ শব্দ) । নবম শ্রেণির ১৩তম সপ্তাহের বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান উত্তর

প্রাচীন বাংলার মানচিত্রে জনপদসমূহ চিহ্নিত করে সেখানকার ভৌগলিক অবস্থার প্রেক্ষিতে জনপদ গড়ে উঠার কারণ সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন লিখ

নবম শ্রেণির ১৩তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট

নবম শ্রেণির ১৩তম সপ্তাহের বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা অ্যাসাইনমেন্ট

নবম শ্রেণির ১৩তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট

নবম শ্রেণির এসাইনমেন্ট  সমাধান ২০২১

Class 9 history and world civilization of Bangladesh assignment answer 2021 13th week


অ্যাসাইনমেন্ট:
প্রাচীন বাংলার মানচিত্রে জনপদসমূহ চিহ্নিত করে সেখানকার ভৌগলিক অবস্থার প্রেক্ষিতে জনপদ গড়ে উঠার কারণ সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন লিখ; (১৫০-২০০ শব্দ)

নির্দেশনা (সংকেত/ ধাপ/ পরিধি):
  1. মানচিত্র A4 সাইজের সাদা কাগজ কিংবা ক্যালেন্ডারের উল্টো পৃষ্ঠায় (পূর্ণ পৃষ্ঠা) স্কেল হিসেব করে অংকন করতে হবে;
  2. জনপদগুলাের ছবি বিভিন্ন পত্রিকা, বই, গুগল এবং ইউটিউবের সহায়তায় সংগ্রহ করে প্রবন্ধে সংযােজন করা যেতে পারে;
  3.  তােমার পাঠ্যপুস্তকের দ্বিতীয় অধ্যায় থেকে এ সম্পর্কিত ধারণা নেওয়া যেতে পারে;
১৩তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট PDF Download

নবম শ্রেণির ১৩তম সপ্তাহের বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা অ্যাসাইনমেন্ট

প্রাচীন বাংলার মানচিত্রে জনপদসমূহ চিহ্নিত করে সেখানকার ভৌগলিক অবস্থার প্রেক্ষিতে জনপদ গড়ে উঠার কারণ সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন লিখ


ক.প্রাচীন বাংলার মানচিত্র অংকন করে জনপদগুলাে চিহ্নিত করনঃ

প্রাচীনকালে বাংলার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঞ্চলগুলাের নাম দেয়া হয়েছিল জনপদ। চতুর্থ শতক হতে গুপ্ত যুগ, গুপ্ত পরবর্তী যুগ, পাল, সেন প্রভৃতি আমলের উল্কীর্ণ শিলালিপি ও সাহিত্য গ্রন্থে প্রাচীন বাংলার ১৬ টি জনপদগুলাের নাম পাওয়া যায় (বাংলায় ছিল ১০টি)।যথা বঙ্গ, গৌড়, সমতট, হরিকেল, চন্দ্রদ্বীপ, রাঢ়, পুণ্ড ও বারিন্দ্রী প্রভৃতি নামে জনপদ ছিল।


নবম শ্রেণির ১৩তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট
নবম শ্রেণির ১৩তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট

খ.প্রাচীন বাংলার জনপদগুলাের গুরুত্ব ব্যাখ্যাঃ

আমাদের এই অতিপ্রিয় বাংলার জন্ম কিন্তু রাতারাতি হয় নি। প্রাচীন বাংলার যাত্রা শুরু হয় বেশ কিছু জনপদের মাধ্যামে। উত্তীর্ণ শিলালিপি ও বিভিন্ন সাহিত্যগ্রন্থে প্রায় ১৬টি জনপদের কথা জানা যায়। তবে একেকটি জনপদের সীমা এক এক রকম ছিল। এই জনপদগুলাে ধীরে ধীরে বর্ধিত হয়ে বর্তমান বাংলার রূপ পরিস্ফুটন হয়েছে। তাই এই জনপদগুলাের গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে কয়েকটি উল্লেখযােগ্য জনপদের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা হলােঃ

পুন্ড্রঃ প্রাচীন বাংলার অন্যতম প্রধান জনপদ ছিল পুন্ড্র। বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চল নিয়ে গঠিত পুন্ড্রদের রাজধানী ছিল পুন্ড্রনগর যা পরবর্তীকালে মহাস্থানগড় নামে পরিচিত হয়। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের মধ্যে পুন্ড্রই ছিল সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ। পাথরের চাকতিতে খােদাই করা প্রাপ্ত লিপিগুলােকেই মনে করা হয় বাংলাদেশের প্রাচীনতম শিলালিপি।

নবম শ্রেণি ১৩ তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট এর উত্তর


বঙ্গঃ বঙ্গ নামেই বাংলা নামটি জড়িয়ে আছে। এটি অতি প্রাচীন জনপদ। বর্তমান বাংলাদেশের বিক্রমপুর, ফরিদপুর, বাকেরগঞ্জ ও পটুয়াখালির নিচু জলাভূমি পর্যন্ত ছিল বঙ্গ জনপদের বিস্তৃতি। বঙ্গ জনপদ ছিল খুবই শক্তিশালি অঞ্চল। এই বঙ্গ’ নাম থেকেই বাঙালি জাতির উৎপত্তি ঘটেছিল।

গৌড়ঃ প্রাচীন বাংলায় সবচেয়ে জনপ্রিয় জনপদ ছিল গৌড়। তবে এই জনপদটির প্রাথমিক অবস্থান ঠিকমতাে জানা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হয় ষষ্ঠ শতকে পূর্ব বাংলার উত্তর অংশে গৌড় রাজ্য নামে স্বাধীন এক রাজ্য। ছিল। যার রাজা ছিলেন শশাঙ্ক এবং রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ। রাজা শশাঙ্ক ছিলেন শক্তিশালী রাজা।তার শাসনামলে প্রাচীন বাংলায় গৌড় জনপদ অনেক সমৃদ্ধ হয়েছিল।

নবম শ্রেণির বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ১৩ তম সপ্তাহের এসাইনমেন্ট ২০২১

হরিকেলঃ সপ্তম শতকের লেখকদের বর্ণনায় হরিকেল জনপদের অবস্থান যে পূর্ব বাংলায় ছিল সেটা জানা যায়। বর্তমান সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত এই জনপদ ছিল সমৃদ্ধ। সমতট অনেকেই মনে করেন সমতট বর্তমান কুমিল্লার প্রাচীন নাম। 

গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে শুরু করে মেঘনার মােহনা পর্যন্ত সমুদ্রকূলবর্তী অঞ্চলকেই সম্ভবত সমতট বলঅ হতাে। কামতা ছিল এর রাজধানী। এই জনপদের নিদর্শন পাওয়া যায় কুমিল্লার ময়নামতিতে। শালবন বিহার এদের অন্যতম। উপরিল্লিখিত প্রাচীন জনপদগুলাে থেকে আমরা প্রাচীন বাংলার ভৌগলিক অবয়ব, সীমারেখা, রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারি। 

প্রাচীন জনপদগুলাতেই পারস্পরিক বিবর্তনের মাধ্যমে বর্তমান বাংলার জনপদ হিসেবে গড়ে উঠেছে।প্রাচীন বাংলার এই জনপদের বিভিন্ন নিদর্শন আমাদের ঐতিহ্যগত সম্পদ। তাই এই জনপদগুলাের গুরুত্ব অপরিসীম।

গ.প্রাচীন বাংলার ইতিহাসের ধারণা ব্যাখ্যাঃ


প্রাচীন বাংলার ইতিহাসের সময়কাল নিয়ে কিছুটা দ্বিধাবিভক্তি দেখা যায় ঐতিহাসিকগণের মধ্যে। তখনকার আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে ঐতিহাসিক সময়কালগুলাে অর্থাৎ যুগ নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। 

বেশিরভাগ ঐতিহাসিকগণ মনে করেন যে, খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ অব্দ থেকে ১৩০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে বাংলার ইতিহাসের প্রাচীন যুগ বলা হয়। আবার কেউ কেউ খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ অব্দ থেকে ৬০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে আদি ঐতিহাসিক যুগ এবং ৭০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৩০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে প্রাক-মধ্যযুগ বলেও যুগ বিভাজন করে থাকেন।

এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ দিকে প্রাচীন বাংলার অবস্থান। বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনাবলির বদৌলতে এর সীমানা বারবার পরিবর্তিত হয়েছে। ১৯৪৭ সালে ইংরেজদের বিদায়ের পর বাংলা দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। বর্তমান বাংলাদেশ পূর্ব পাকিস্তান নাম ধারণ করে এবং অপর বাংলা ভারতের অংশ হয়ে যায়। 

পরে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তান সম্পূর্ণভাবে স্বাধীন বাংলাদেশে পরিণত হয়।প্রাচীন যুগে বাংলা এখনকার মতাে কোনাে একক ও অখন্ড রাষ্ট্র বা রাজ্য ছিল না। বাংলার বিভিন্ন অংশ তখন ছােট ছােট অঞ্চলে বিভক্ত ছিল। আর প্রতিটি অঞ্চলের শাসক যার যার মতাে শাসন করতেন। বাংলার এ অঞ্চলগুলােকে তখন সমষ্টিগতভাবে নাম দেয়া হয়েছিল জনপদ।

Conclusion:

এই ছিল ৯ম নবম শ্রেণির বাংলাদেশ ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা এসাইনমেন্ট অ্যাসাইনমেন্ট এর নমুনা উত্তর ১৩ তম সপ্তাহ । আশা করি তোমাদের স্পষ্ট ধারণ হবে অ্যাসাইনমেন্ট সম্পর্কে ।

Last Line: প্রাচীন বাংলার মানচিত্রে জনপদসমূহ চিহ্নিত করে সেখানকার ভৌগলিক অবস্থার প্রেক্ষিতে জনপদ গড়ে উঠার কারণ সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন লিখ

Post a Comment

0 Comments