অ্যান্ড্রোয়েড ভাইরাস : কিভাবে নিজেকে নিরাপদ রাখবেন ? List of Android Viruses and How to Protect

বর্তমান বিশ্বে সর্বাধিক মোবাইল, ট্যাবলেট অ্যান্ড্রোয়েড অপারেটিং সিস্টেম দ্বারা চালিত । অ্যান্ড্রোয়েড অপারেটিং সিস্টেম অপেন সোর্স হওয়ায় সিস্টেমে ইনস্টল হওয়া অ্যাপ ব্যবহার করে হ্যাকারদের কাছে এর সিস্টেমে ঢোকা অনেকটাই সহজ। প্লে-স্টোরে হাজার হাজার অ্যাপ আছে যেসব অ্যাপ নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে না। 

হ্যাকাররা তাদের এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে ব্যবহারকারী সিস্টেমে প্রবেশ করতে পারে। ট্রোজান, অ্যাডওয়ার, স্পাইওয়ার, কীলগার এবং আরো বহু ম্যালওয়ার প্রোগ্রাম আছে, যা সহজ টার্গেটেই আক্রমণ করতে সক্ষম।

অ্যান্ড্রোয়েড ভাইরাস : কিভাবে নিজেকে নিরাপদ রাখবেন ? 

List of Android Viruses and How to Protect 

List of Android Viruses and How to Protect
অ্যান্ড্রোয়েড ভাইরাস : কিভাবে নিজেকে নিরাপদ রাখবেন ? List of Android Viruses and How to Protect 

আপনার অ্যান্ড্রোয়েড চালিত সিস্টেমের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সর্ব প্রথম আপনার জানা প্রয়োজন সর্বশেষ ভাইরাস কি কি ক্ষতি সাধন করেছে তা সম্পর্কে। কারণ, জানার বিকল্প কিছুই নেই, আর আপনি তখনই সুরক্ষিত থাকবেন যখন আপনি কোনো তথ্য সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে জানবেন।

আমাদের আজকের টপিকে আমরা আলোচনা করব সর্বশেষ অ্যান্ড্রোয়েড ভাইরাস সম্পর্কে, কিভাবে ভাইরাস মোবাইলে আক্রমন করে, কিভাবে ভাইরাস অ্যান্ড্রোয়েড ডিভাইসের ক্ষতি করছে, কিভাবে তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে ?

অ্যান্ড্রোয়ড ভাইরাসের তালিকা

1.   ফেক ডলফিন : FakeDolphin

ফেক ডলফিন একটি ম্যালিসিয়াস প্রোগ্রাম । ফেক ডলফিন ডিভাইসের ডিফল্ট ব্রাউজার (গুগল ক্রোম) এর পরিবর্তে নিজেকে ডিফল্ট হিসেবে সক্রিয় রাখে। ফেক ডলফিন ব্রাউজার এমন একটি নকল ব্রাউজার যেখানে ট্রোজান ভাইরাস যুক্ত করা থাকে। যা ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন ওয়েবসাইটে সাইনআপ করায়।

2.  গিন মাস্টার : GinMaster

গিন মাস্টার জিঞ্জারমাস্টার নামেও পরিচিত। ২০১১ সালে প্রথমবার এই ভাইরাসটি সনাক্ত করা হয়। অ্যান্ড্রোয়েড ডিভাইসে চালিত বেশিরভাগ আক্রমণই এই গিনমাস্টার দ্বারা করা হয়ে থাকে। ডিভাইসে একবার প্রবেশ করার পর গিন মাস্টার ডিভাইসের মুল ব্যাকাপ পার্টিশনে এর শেল প্রোগ্রাম ইনস্টল করে। 

গত এক দশকে সাইবার অপরাধীরা এর এত উন্নতি সাধন করছে যে, এটি সেনসিটিভ তথ্য হাতিয়ে নেওয়া, ডিভাইস রিমোট কন্ট্রোল, স্পাইংসহ আরো বিভিন্নভাবে হ্যাকারের উদ্দেশ্য সাধন করে। গিন মাস্টার নিজের একটি কপি ডিভাইসের অন্যান্য অ্যাপ এর সাথে যুক্ত করে এবং ডিভাইসের ডাটা আদানপ্রদান করার সময় নিজেকে অন্য ডিভাইসে ইনস্টল করে নেই।

3.  এক্সোবোট: ExoBot

এক্সোবোট ব্যাংকিং এর ক্ষেত্রে খুবই বিপদজনক । এটি ব্যবহারকারীকে বাধ্য করে সেনসিটিভ ডাটা প্রবেশ করাতে এবং সেই সমস্ত তথ্য ব্যবহার করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হাতিয়ে নেয়।
4. ফেকইনস্ট : Fake Inst

ফেকইনস্ট ট্রোজান গোত্রীয় । ২২% ম্যালিসিয়াস আক্রমণের জন্য দায়ী ফেকইনস্ট । ফেকইনস্ট একটি ইনস্টলার অ্যাপ হিসেবে প্রকাশি দিয়ে থাকে। একবার ডিভাইসে চালু হওয়ার পর থেকে প্রিমিয়াম-রেট হিসেবে বার্তা সো করে।

5.  ব্ল্যাকরক ম্যালওয়ার : BlackRock Malware

ব্ল্যাকরক ম্যালওয়ার ও ট্রোজান শ্রেণির। ব্ল্যাকরক ম্যালওয়ার জিমেইল, উবার, অ্যামজন, নেটফ্লিক্সসহ আরো অনেক প্রয়োজনীয় অ্যাপ থেকে ব্যাংকিং তথ্য হ্যাক করতে কাজ করে। ব্ল্যাকরক ম্যালওয়ার ৩০০ টির বেশি অ্যাপ এবং ১ মিলিয়নের বেশি মানুষকে নিজের টার্গেট করেছে।

6.  অপফ্যাক : OpFake

অপফ্যাক ভাইরাস অপেরা ব্রাউজার অ্যাটাক করে এবং ডাউনলোডার হিসেবে কাজ করে। কিন্তু গুপনে হ্যাকার নিঃশব্দে ব্যবহারকারীর গতিবিধী নজরে রাখে এবং প্রিমিয়াম বার্তা প্রোরণ করে। পপআপস, ফেক অপেরা আপডেটসহ আরো বিভিন্ন উপায়ে ডিভাইসে বিস্তার ঘটায়।

7.  বেসব্রিজ : Basebridge

বেসব্রিজ একটি স্পাইওয়ার ভিত্তিক ম্যালওয়ারযা অ্যান্ড্রোয়েড ডিভাইসে প্রবেশ করে। বেসব্রিজ ব্যবহারকারীর উপর গুপ্তচর বৃত্তি এবং তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার কাজ করে।

8.  কুং ফু : Kung Fu

কুংফু হ'ল একটি রুটকিট টাইপ ম্যালওয়্যার যা সাধারণত কোনও অ্যাপ্লিকেশনে নিজেকে এম্বেড করে ডিভাইসে প্রবেশ করে। সিস্টেমে অনুপ্রবেশের পরে, সুরক্ষা প্রোগ্রামগুলি বা নিরাপত্তা বেস্টনি দানকারী প্রোগ্রাম থেকে আড়াল করার জন্য দ্রুত ডিভাইসের মূল অ্যাক্সেস গ্রহণ করে। 

কুং ফু ব্যাকডোর ফংশন ব্যবহার করে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ডিভাইসের ছোট-বড় যেকোনো ফাইল হ্যাকারের সার্ভারে পাঠাতে পারে। কুং ফু ডিভাইসে বিভিন্ন ক্রিপ্ট ইনস্টল করে, যা বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্রাউজ করতে পারে ডিভাইসের ব্রাউজার ব্যবহার করে। ব্রাউজার হিসট্রি, ডিভাইস বা মেমোরি স্টোরেজে থাকা ডেটা চুরি করে।

9.   ঘোস্ট পুশ ভাইরাস : Ghost Push virus

ঘোস্ট পুশ ভাইরাস একটি অ্যান্ড্রোয়েড ম্যালওয়ার, যা নগাট (Android 7.0) বা তার নিচের ভারসনে রানিং ডিভাইস টার্গেট করে। এটি এমন এক ধরণের রুটকিট যা সিস্টেমে অনুপ্রবেশের পরে ফোনে ব্যবহারকারীর অনুমতি ব্যতীত বিভিন্ন কার্য সম্পাদন করতে পারে। 

ঘোস্ট পুশ ভাইরাস নামের মতোই বেচে থাকতে পারে। এমন কি ডিভাইস হার্ড রিসেট করার পরেও এটি ডিভাইসে থেকে যায়। কেবল মাত্র ফার্মওয়ার রি-ফ্ল্যাশিং করে ঘোস্ট পুশ ভাইরাস রিমুভ করা যায়।

 পেগাসাস স্পাইওয়ার কীভাবে কাজ করে ? How does Pegasus Spyware work?

আমরা উপরোক্ত আলোচনার মাধ্যমে ক্ষতিকর কিছু অ্যান্ড্রোয়েড ভাইরাস সম্পর্কে জানতে পারলাম। এখন আরো কিছু ম্যালওয়ার/ভাইরাস সম্বলিত অ্যপসের নাম জানব।


২৫টি অ্যান্ড্রোয়েড ভাইরাস/ ম্যালওয়ারযুক্ত অ্যাপস ২০২১

    • All Good PDF Scanner
    • Buzz
    • Blue Scanner
    • Paper Doc Scanner
    • Care Message
    • Wifi Pasword Cracker
    • Desire Translate
    • SecurIt
    • Axgle
    • Direct Messenger
    • Tangram App Lock
    • Wallpaper girls
    • Hummingbird PDF Converter – Photo to PDF
    • AppleProtect
    • Meticulous Scanner
    • Idea Security
    • Google Play Service [com.demo.testinh]
    • Unique Keyboard – Fancy Fonts & Free Emoticons
    • Talent Photo Editor – Blur focus
    • Mint Leaf Message-Your Private Message
    • Shortcut name
    • One Sentence Translator – Multifunctional Translator
    • Part Message
    • Private SMS
    • Style Photo Collage

 এখানে বলে রাখা জরুরী যে উল্লেখিত অ্যান্ড্রোয়েড অ্যাপগুলির মধ্যে কিছু অ্যপ গুগল প্লে-স্টোর এ পাওয়া যায়। দুঃখজনকভাবে ক্ষতিকর অ্যাপ নির্দিষ্ট করা প্লে-স্টোর এর পক্ষে খুবই চ্যালেঞ্জিং।


যদি আপনি অনুভব করেন যে আপনার ডিভাইস ভাইরাস/ম্যালওয়ার এর আক্রমণের শিকরা, তাহলে পুরো সিস্টেম ভালোভানের অ্যান্টি ম্যালওয়ার দিয়ে স্ক্যান করে নিন।

Conclusion:

ডিজিটাল গ্যাজেট এবং তথ্য প্রযুক্তির অবাধ উন্নতির কারণে স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, স্মার্ট টিভি সহ আরো অসংখ্যা ডিভাইস মানুষের নিত্যসঙ্গী। ডিজিটালাইজড এর কারণে সাইবার এ্যাটাক বৃদ্ধি এবং মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে। তাই নিজের নিরাপত্তা নিজেকেই নিশ্চিত করতে হবে।

Post a Comment

0 Comments