ধর্ষণ ! নারীরা নিরাপদ কোথায় ? Rape! Where are women safe?

যখন পুরো জাতি অমানিশার কাল পার করছে, অস্থিরতার করাল গ্রাসের কবলে তখন নারীর সম্মান রক্ষা করে চলা কঠিন।

সম্মান মানুষের মূল্যবান সম্পদ। সে নারী হোক অথবা পুরুষ। তবে সম্মানহানির বিষয়টা নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে কিছুটা আলাদা। আপাতঃ দৃষ্টিতে নারীর সম্মান স্পর্শকাতর, অল্প আঁচেও যত্নে গড়া ঐশ্বর্যে দাগ লেগে যাবার সম্ভবনা রয়েছে। শিশু হতে বৃদ্ধা সকলেরই সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ। কারণ তারা ঘরেও নিরাপদ না।
Rape
Rape! Where are women safe?

ধর্ষণ ! নারীরা নিরাপদ কোথায় ? 

Rape! Where are women safe?

বর্তমান সমাজে কেউ কাউকে মানতে চায়না। আইনের প্রতি কারোর আনুগত্য বা শ্রদ্ধা নেই। শান্তির কথা না ভেবে সকলেই যেন ধর্মহীনতার আপাতঃ মিষ্ট স্বাদের এক নেশায় মেতেছে।

ফলে সমাজে বাড়ছে অন্যায় কর্মকাণ্ড। রাহাজানি, খুন, ধর্ষণ, গুম হয়ে উঠেছে টিভি চ্যানেল ও নিউজপেপার এর নিত্যসঙ্গী। এর মধ্য ধর্ষণ অন্যতম। 

ধর্ষণ ! সামাজিক কলংক : Rape! Social stigma:

ধর্ষণ, সমাজের এক নৈমিত্তিক অলংঘনীয় নির্ঘন্ট। দেশের নিরীহ নারীসমাজ প্রতিনিয়ত হচ্ছে প্রতারিত, নির্যাতিত, ধর্ষিত। সাথে ধর্ষিত হচ্ছে পুরো জাতির বিবেক।

কারা ধর্ষিত হচ্ছে ?  Who is being raped?

নারীরা সব সময়ই সচেতন, কিন্তু নারীদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশু ও তরুণীরা এ সংকটের সম্মুখীন হয় বেশি। কেননা শিশুরা নিরাপত্তা ও বিপদের পার্থক্য বুঝতে শিখেনা তখনো ততটা। আর বয়ঃসন্ধির পর হতে চঞ্চলতা আর বেখেয়ালিপনায় মেতে উঠে মেয়েরা। এসময় তাদের ভালো মন্দ বোধটা হয়তো খুব কম থাকে তাই তারা অতিরিক্ত এবং বিপদজনক অবস্থার মুখোমুখি হয়।

ধর্ষণ কেন করা হয় ? Why is rape?

কিশোরী হতে তরুণী এই সময়টাই নারীদের পুরুষ সঙ্গী বেশি থাকে। স্কুল কলেজের বন্ধু বা বয়ফ্রেন্ড নামক মরিচিকার কবলে পড়ে তারা। হয়তো নিজে থেকে অথবা শয়তানের প্ররোচনায়। কেউ করে আপন ইচ্ছায় সম্মান বিনষ্ট কেউবা হয় ধর্ষিত। 
একজন নারীর পুরুষ বন্ধুর প্রয়োজনের গন্ডি পার হওয়া উচিৎ নয়। কারণ নারী-পুরুষ একে অপরের বন্ধু একসাথে ঘুরতে যাওয়া, ঘেঁষাঘেঁষি করে আড্ডা দেওয়া কতটা দৃষ্টিকটু সমাজ হয়তো তা বুঝতে ভুলে গেছে।

ছেলে মেয়ের সমান অধিকার বা পার্থক্য কমাতে গিয়ে যে আমরা নারী নামটার মাধুর্য খুইয়ে ফেলছি তা ঘুণাক্ষরেও টের পাচ্ছি না অথবা বুঝতে চেষ্টা করছি না।

মেয়েরা নিরাপদ কোথায় ? Where are the girls safe?

আজকের সমাজে মেয়ে বাবার কাছে নিরাপদ নয়, ভাইয়ের কাছে নিরাপদ নয়, চাচা আপত্তিকর কাজ করে, শিশু আপত্তিকর স্পর্শের সম্মুখীন হয়, ধর্ষিত হয়। কোথায় যাবে নারী?

বাবার বুকে মেয়ে আশ্রয় খোঁজে, ভরসা খোঁজে। কিন্তু হায় সমাজ বাবাও মেয়েকে ধর্ষণ করে। মা ও টাকার জন্য পুরুষের সাথে লেলিয়ে দেওয়ার মতো জঘন্য কাজ করে থাকে বাংলাদেশে। মায়ের আঁচলের ছায়ায় হয়তো সন্তানের জান নিতে মৃত্যুও প্রবেশ করতে ভয় পাবে সেখানে ও নিরাপত্তার অভাব। 

আসলে আমরা সচেতন নই। আমরা বড়ো বড়ো ডিগ্রী নিয়েও মূর্খের মতো জীবনযাপন করি। আমরা আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা দিতে পারিনা। 
“হে পুরুষ তুমি পুরুষ নও। 
তোমার মেয়ে তোমার সম্মান, 
তোমার বোন তোমার সম্মান, 
তাদের নিরাপত্তা দেওয়া, 
নিজেকেই মূল্য দেওয়া।
যা দিতে তুমি অপারগ, তুমিই এখন ধর্ষক ।”

একটা উদাহরণ দিই, আপনি বাসায় একটি টিউটর রেখে আপনার মেয়েকে পড়াচ্ছেন। আপনি বাসায়ই আছেন কিন্তু টিভি সিরিয়াল বা ফোনে মেতে অথবা পাশের বাসার মহিলার সাথে গল্পে মেতে। যদি আপনার সন্তানের সাথে কোন অন্যায় হয় তবে আপনি মা হবার যোগ্যতা রাখেন না। 

আপনার মেয়ের কারোর সাথে ঘুরতে গিয়ে ধর্ষণ হলে দায় আপনার কারণ আপনি তার সাথে বন্ধুর মতো মিশতে পারেননি। ছেলেমেয়ে বড়ো হয়ে গেছে তাদের রুম আলাদা করে দিয়েই আপনার দায়িত্ব শেষ না। সন্তানের রুমের আনাচেকানাচে আপনার বিচরণ থাকা উচিৎ তেমনি সন্তানের মনের এ প্রান্ত হতে ও প্রান্ত।

ইসলামের দৃষ্টিতে নারী : The dignity of women in Islam

ইসলাম নারীকে সম্মানিত করেছে। শালীনতা নারীর অঙ্গীকার। কিন্তু কি ঘটে আজকাল সমাজে! নারীকে সচেতন করার চেষ্টা করা হয়। কত কবি, লেখক সুক্ষ্মতার সাথে নারীদের সচেতন হতে বলেছেন।
ইসলামে পর্দার বিধান রয়েছে। পুরুষদের প্রতি কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এরপরও কলুষিত সমাজ টা আলোর পথটা বেছে নিতে চায় না।

ইসলামে বলা হয়েছে  “মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেস্ত।”

ইসলামে সু-স্পষ্টভাবে ধর্ষণ ব্যভিচারের শাস্তির কথা উল্লেখ আছে। যদি কোনো পুরুষ জোর পুর্বক নারীকে ধর্ষণ করে তবে শাস্তি ভোগ করতে হবে পুরুষকে। কিন্তু সেই ধর্ষণে যদি নারীর সম্মতি থাকে তবে উভয়ই জেনার দায়ে শাস্তি ভোগ করবে।


2


ধর্ষণকারীর শাস্তি সম্পর্কে ইসলামে বলা হয়েছে:




কিছু নারী রয়েছে ব্যতিক্রম যারা আড়ালে থাকতে চায় কিন্তু তাদের কোন উপায় নেই। তাদের বেরোতে হয় কর্মক্ষেত্রে। না চাইলেই মিশতে হয় পুরুষের সাথে। কলিগ বা বসের লালসার স্বীকার হয়েও তারা মুখ বুঝে কর্ম টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে যায়। তবে কি আজীবন তারা এভাবেই সয়ে যাবে ?


না তারা এসব
মুখ বুজে সইবে না। আত্মনির্ভরশীল নারী কর্ণধার দের রক্ষাকর্তা। রাতে রাস্তায় একা চলাচলেও তার ভয় পাওয়া চলবেনা। তবে কখনোই সে একজন পুরুষকে বিশ্বাস করতে পারে না। কিন্তু এতকিছু জানার পরও আমরা বিষয়গুলো নিয়ে মাথা ঘামাই না যতখন না আমরা আ্যবিউজের শিকার হই।

Conclusion:

নারীর নিজেকে সুরক্ষিত রাখার উপায় চিন্তাধারা বদলানো। কারণ সে যখন সম্পূর্ণ একা। নিজেকে কখনোই ভিক্টিম ভাবা যাবে না আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। এবং সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। এছাড়াও কাছে ছোটখাটো অস্ত্র রাখা ভালো মরিচের গুড়ো,বডি স্প্রে রাখা জরুরী। 

তাছাড়া আ্যভয়েড করুন পুরুষদের যতটা সম্ভব। শেল্ফ ডিফেন্স মেকানিজম শিখে রাখা উচিৎ। পোশাক, এবং বডি ল্যাঙ্গুয়েজ শালীন হওয়া জরুরি। তবেই নারী নিরাপদ। নারী নিজেই নিজেকে নিরাপত্তা দিবে।

Last line: ধর্ষণ ! নারীরা নিরাপদ কোথায় ? Rape! Where are women safe?

Post a Comment

Post a Comment (0)

Previous Post Next Post