মাথা ঘােরার নানা কারণ ! (ভারটাইগাে)


মাথা ঘােরা বা ভারটাইগাে হলাে এমন একটি অবস্থা, যেখানে মনে হয় আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেই ঘুরছেন বা তার চারপাশ ঘুরছে। মাথা তুলতেই পারেন না অনেকে। সঙ্গে থাকে বমি বমি ভাব ও বমি। মাথা ঘােরার রয়েছে নানা কারণ।

মাথা ঘােরার নানা কারণ ! (ভারটাইগাে) There are many reasons for dizziness

 • বিনাইন প্যারােক্সিমাল পজিশনাল ভারটাইগাে (বিপিপিভি) :  Binain Paraximal Positional Vertigae (BPPV)

এটি খুব মারাত্মক নয়। চিকিৎসায় এটি পুরােপুরি ভালাে হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি হঠাৎ করে মাথা কোনাে একদিকে ফেরালে বা শুধু একটি নির্দিষ্ট দিকে ফেরালে মাথা ঘােরা শুরু হয়ে যায় । 

• অন্তকর্ণের প্রদাহ : Inflammation of the inner ear

সাধারণত ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া অন্তকর্ণে সংক্রমণের ফলে মাথা ঘােরা দেখা দিতে পারে। এতে হঠাৎ করেই মাথা ঘােরা শুরু হয়। এর পাশাপাশি শ্রবণশক্তি হ্রাস পেতে পারে ।

• মেনিয়ার্স ডিজিজ : Meniere's disease

এটিও কানের একটি রােগ। তিনটি উপসর্গ থাকে একসঙ্গে। মাথা ঘােরা, কানের মধ্যে ভোঁ ভোঁ শব্দ করা ও শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া। এ রােগে আক্রান্তরা কিছু দিন পুরােপুরি সুস্থ থাকেন।

ভূমিকম্প : দুর্যোগ মোকাবিলায় আমরা কতটা প্রস্তুত !?

• অ্যাকোয়েষ্টিক নিউরােমা : Acoustic neuroma

এটি স্নায়ুর টিউমার। এ ছাড়া সেরেবেলার রক্তক্ষরণ, মাল্টিপল স্টেরােসিস, মাথায় আঘাত, মাইগ্রেনেও হতে পারে মাথা ঘােরা।


চিকিৎসকের যখন প্রয়ােজন:

বেশিরভাগ মাথা ঘােরাই মারাত্মক নয়। যদিও মাথা ঘােরার কারণে স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটে। তারপরও মাথা ঘােরা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। 

কারণ, মাথা ঘােরার পেছনে মারাত্মক কিছু কারণও আছে। চিকিৎসক পরীক্ষা করে দেখবেন কী কারণে মাথা ঘােরার সমস্যা দেখা দিয়েছে। 

মাথা ঘােরার সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা, একটি জিনিস দুটি দেখা, হাঁটতে সমস্যা হওয়া, কথা জড়ানাে বা স্পষ্ট না হওয়া, শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিলে দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিতে হবে। 

মাথা ঘােরার চিকিৎসা:  Treatment of dizziness

বিপিপিভি হলে সাধারণত ওষুধের প্রয়ােজন পড়ে না। যদি সমস্যা খুব বেশি হয় তাহলে প্রােমেথাজিন ও মেকিজিন সেবন করা যেতে পারে। অবশ্যই তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। মাথা ঘােরা শুরু হলে এসব ওষুধ সেবন না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই ভালাে। কারণ, এতে করে চিকিৎসকের পক্ষে রােগ নির্ণয় করা সহজ হয়। 

Conclusion:

ওষুধ সেবন করে চিকিৎসকের কাছে গেলে রােগ নির্ণয় করতে সময় লাগে। বিপিপিভি আক্রান্তদের জন্য কিছু ফিজিওথেরাপি আছে। ভেস্টিবুলার রিহেবিলিটেশন এক্সারসাইজ, যা এপলি ম্যানুভার নামে পরিচিত। 

অন্তকর্ণের প্রদাহের কারণে মাথা ঘােরা হলে অ্যান্টিবায়ােটিক সেবনের প্রয়ােজন পড়ে। মেনিয়ার্স ডিজিজে আক্রান্তদের জন্যও চিকিৎসা আছে। তবে তাদের লবণ কম খেতে হবে। 


Last line: মাথা ঘােরার নানা কারণ ! (ভারটাইগাে)