৫ টি রহস্যময় সামুদ্রিক প্রাণী

আমাদের পৃথিবী, এই সমগ্র বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের একটি বাড়ির কোনের থেকেও ছোট এবং এই পৃথিবীর ৭০ শতাংশই জল দ্বারা আবৃত । আর প্রাচীনকাল থেকেই সমুদ্রের প্রতি মানুষের আকর্ষন সীমাহীন ।

সমুদ্রে পাড়ি দেওয়া ও সমুদ্রের রহস্য গুলির আসল কারণ জানার আগ্রহ নতুন কিছু নয় । বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের স্বপক্ষে আমাদের পৃথিবী অনেক ক্ষুদ্র হলেও পৃথিবীর সমুদ্রের অন্তর গহবরে লুকিয়ে রাখে হাজারো অমীমাংসিত রহস্য ও সম্পূর্ণ ভিন্নরূপী জগত ।

কিন্তু মাঝে মাঝে এই রহস্যময় জলের জগতের কিছু ঝলক আমরা দেখতে পেয়ে যাই, যার কিছুটা আমরা বুঝতে সক্ষম হই আর কিছুটা কয়েক শতাব্দী অবধি রহস্যই হয়ে থাকে ।

এই রহস্য গুলির মধ্যে মাঝে মাঝে সমুদ্রের বসবাসকারী বিশাল আকার মাছ বা রহস্যময়ী জীবও থাকে ।

আধুনিক বিজ্ঞান সভ্যতায় আমরা হাজার হাজার বছর ধরে সামুদ্রিক জীবেদের ওপর অধ্যায়নরত । কিন্তু তারপরেও অজানা হাজারো এমন প্রজাতির প্রাণী আছে যাদের সম্মন্ধে আমাদের বিন্দুমাত্র ধারণাও নেই ।

তাই আজ বিদ্যাপ্রেমির এই প্রতিবেদনটিতে এমন কিছু অদ্ভুত সামুদ্রিক জীব ও প্রাণী নিয়ে আলোচনা করব, যেগুলি বিগত কিছু বছরের মধ্যে দেখা বা অনুভব করা গিয়েছে । যা বৈজ্ঞানিক জগতকে চমকে দিয়েছে । তো চলুন প্রতিবেদনটি শুরু করা যাক ।

৫ টি রহস্যময় সামুদ্রিক প্রাণী, যা দেখে বিজ্ঞানীরা অবাক । 5 Most Mysterious & Unexplained Sea Creatures

 

১. ৯ ফুট হাঙ্গরকে গিলে খাওয়া অজ্ঞাত দানব । 'Mystery sea monster' eats 9-foot great white shark

৫ টি রহস্যময় সামুদ্রিক প্রাণী


সামুদ্রিক এই দানবের কাহিনী আজ থেকে ১৭ বছর পুরনো ।ফিল্মমেকার টিবেক্স ও তার টিম অস্ট্রেলিয়ার তট সংলগ্ন সমুদ্রে বসবাসকারী গ্রেট হোয়াইট শার্কদের ওপর নিজেদের পরিক্ষামূলক ট্যাগ লাগিয়েছিল ।

যাতে তারা ওই হাঙ্গর মাছ গুলির গতিবিধি ও ক্রিয়া-কলাপ অধ্যায়ন করতে পারে এবং চার মাস পর একটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটে ।

যেসব শার্ক অর্থাৎ হাঙ্গরগুলির উপর ওপর ট্যাগ লাগানো হয়েছিল, তাদের মধ্যে আলফা নামের ৯ ফিট লম্বা একটি মাছের ট্যাগ সমুদ্রের তীরে খুঁজে পাওয়া যায় ।

যখন ট্যাগটির ডাটাগুলোকে এ্যানালাইসিস করা হয় তখন এক আশ্চর্যজনক ফল জানা যায় । এই ট্যাগটি কোন এক সামুদ্রিক জীব এর পেট থেকে মলের মধ্যে দিয়ে বেরিয়ে এসেছে ।

ট্যাগটিরডাটা অনুযায়ী হাঙ্গর মাছটি নিজের সাধারন গভীরতা থেকে দুই হাজার ফিট নিচে চলে যায় এবং মাছটির শারীরিক তাপমাত্রা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ৩৮ ডিগ্রি পর্যন্ত বেড়ে যায় ।

এই পরীক্ষা লব্ধ ফল দেখে পরীক্ষকদের চোখ কপালে উঠে যায় । এই রকম ফল তখনই সম্ভব, যখন কোন জীব হাঙ্গর মাছটিকে জীবন্ত গিলে নেবে । কিন্তু নয় ফিট লম্বা হাঙ্গর মাছকে গিলে খাওয়া কোনো সাধারণ জীবের পক্ষে সম্ভব নয় ।

একদল পরীক্ষকদের মতে আলফা নামক হাঙ্গরটিকে কোন এক দ্বিগুণ আকারের হোয়াইট শার্ক গিলে নিয়েছিল । যদি এই ধারণাটি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে এই শার্কটি পৃথিবীর সবথেকে বড় হোয়াইট শার্ক হবে ।

আবার কিছু পরীক্ষক মনে করেন যে কোন এক ছোট মাছই হাঙ্গরের পিটে ঝুলতে থাকা ট্যাগটিকে খেয়ে ফেলেছে ও মলের মাধ্যমে তা ফিরিয়ে দিয়েছে ।

এবং পরীক্ষকদের একটি বৃহৎ অংশ মনে করেন যে কোন অজ্ঞাত দানব এই কাজটি করেছে । আপনাদের কী মনে হয়, অবশ্যই জানাবেন ।


২. শাকলেন দ্বীপ । Shakhalin Island

৫ টি রহস্যময় সামুদ্রিক প্রাণী


রাশিয়াতে খুঁজে পাওয়া বিচিত্র সামুদ্রিক জীব । সাম্প্রতিক চার বছর আগে রাশিয়ার শাকলেন দ্বীপে একটি বিচিত্র সামুদ্রিক জীব এর মৃতদেহ দেখতে পাওয়া যায় । যা সামুদ্রিক জীব বিশেষজ্ঞ বৈজ্ঞানিকদের চিন্তায় ফেলে দেয় ।

সমুদ্রের তীরে পাওয়া এই সামুদ্রিক জীবটির মৃতদেহের ছবি যখন রিলিজ করা হয়, তখন রাশিয়ার নিউজ মিডিয়ায় চর্চা পড়ে যায় ।

সমুদ্র থেকে ভেসে আসা এই প্রাণীটি এতই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল যে এদের হাড় গুলিও বেরিয়ে এসেছিল ।

এই অজ্ঞাত জীবটির পাখির মতো লম্বা ঠোঁট ছিল । ওর লেজের দিকে পালকও ছিল । বাজে অবস্থায় পাওয়া সামুদ্রিক আকৃতি কিছুটা ডলফিন এর মতন হলেও এর আকার মানুষের থেকে প্রায় তিনগুণ বেশি ।

এই রহস্যময় জীবটি আসলে কি তার ওপর বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ বিভিন্ন মত দিয়েছেন ।

শাকলেন রিসার্চ ইনস্টিটিউট অফ ফিজিও ও সোনোগ্রাফি ফোরকাস্টিং ডিপার্টমেন্টের হেড নিকোলিক্লিন বলেছেন এই জীবটি ডলফিন এরই একটি দুর্লভ প্রজাতির ছাড়া আর কিছুই নয় ।

কিন্তু এই রহস্যময় জীবটি যদি সত্যিই ডলফিন এর একটি প্রজাতি হয় তাহলে এর লেজে পালক কেন আছে ? ডলফিন এর তো পালক হয় না ! ও এছাড়াও এর আকার অনেক বড় ।

ডলফিন এর কোন প্রজাতি আকারে এত বড় হয় না । মারইন বায়োলজির প্রফেসর ডেবিট এর মতে এই জীবটি সমুদ্রের একটি প্রাচীন জীবের নমুনা ।

যেটা অনেক বছর ধরে পার্মাফ্রস্ট অর্থাৎ জিরো ডিগ্রী তাপমাত্রায় মাটির নিচে চাপা পড়েছিল এবং কোন কারনে তীরে ভেসে এসেছে ।

বহু বৈজ্ঞানিক বহু মত প্রকাশ করেছেন । কিন্তু কোনটি সঠিক বলে গণ্য করা এখনো অব্দি হয়নি তাহলে এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই রহস্যময় সামুদ্রিক জীবটি আসলে কী ছিল ?

৩. ফিফটিটু হার্জ তিমির রহস্য । Fifty-two herz whale mystery

৫ টি রহস্যময় সামুদ্রিক প্রাণী


একটি অজ্ঞাত আওয়াজ কে নিয়ে এই রহস্য । যেটি ১৮৮৯ সালে প্যাসিফিক ওশান অর্থাৎ প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রে রেকর্ড করা হয়েছিল ।

বলা হয় যে এই আন-আইডেন্টিফাইড শব্দটি সমুদ্রে বসবাসকারী কোন অজ্ঞাত বিশাল জীবের, যেটা কিনা সম্ভবত, হয়তো নিজের প্রজাতির শেষ বংশধর ।

শব্দটির ফ্রিকুয়েন্সি ৫২ হার্জের থেকেও একটু বেশি ছিল । যা তিমি মাছের শব্দের ফ্রিকোয়েন্সি থেকে অনেক বেশি ।

সমুদ্রে বসবাসরত সবচেয়ে বড় নীল তিমি গুলিও শুধু মাত্র ৩০ থেকে ৩২ হার্জ ফ্রিকুয়েন্সি যুক্ত শব্দ তৈরি করতে পারে । ৫২ হার্জের সেই রহস্যময়ী শব্দটি শুনতে এখানে ক্লিক করুন

তাই ৫২ হার্জ ফ্রিকুয়েন্সি যুক্ত এই শব্দ নিয়ে সব সামুদ্রিক বৈজ্ঞানিকেরা চিন্তায় ছিলেন । এটা প্রয়োজনীয় নয় যে শব্দটি তিমি মাছেরই ছিল । যেটা নাও হতে পারে ।

কিন্তু শব্দটি যে জীবেরই হয়ে থাকুক না কেন, এটা নিশ্চিত যে জীবটি তিমি মাছের থেকেও আকারে অনেক বড় হয় । হয়তো কয়েক গুন বড় ।

এরপরেও এই ৫২ হার্জ এর শব্দটি বহুবার শোনা এবং রেকর্ড করা হয় । আসুন শুনেনিই এই শব্দটি কে !

অনুসন্ধান করার পরেও জানা যায়নি যে এই শব্দটি কোন প্রাণী দ্বারা সৃষ্টি হচ্ছে । ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন মতামত সামনে এসেছে ।

যার মধ্যে একটি হচ্ছে, এটি কোন এক বিশাল দানবাকার নীল তিমির । কিন্তু সঠিক ভাবে জোর দিয়ে কেউই বলতে পারে না যে এটি আসলেই কি ?

এই অজ্ঞাত জীবটির সম্বন্ধে আমাদের কাছে কোন নতুন তথ্য নেই । শুধুমাত্র এর আওয়াজ ছাড়া ।

আপনারা এই ৫২ হার্জ ফ্রিকুয়েন্সি শব্দযুক্ত জীবটিকে নিয়ে কি মতামত রাখেন তা অবশ্যই জানাবেন ।

 

৪. সিক্সটি ফিট লম্বা বিশালাকার শার্ক বা হাঙ্গর । 60 foot giant Shark

৫ টি রহস্যময় সামুদ্রিক প্রাণী


আগের দশকে জাপানের সামুদ্রিক জীব বিজ্ঞানীরা জীববিজ্ঞানীরা ফিলিপিন্সের পূর্বে অবস্থিত মারিয়ানা ট্রেঞ্চের সামুদ্রিক জীবের গতিবিধি, ক্রিয়া-কলাপ ও নতুন প্রজাতির উপর সমীক্ষা করছিলেন ।

ও হ্যাঁ, মারিয়ানা ট্রেঞ্চ হলো পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর খাত । এই খাতটি এতটাই গভীর যে মাউন্ট এভারেস্টের আপাদমস্তক ডুবিয়ে দিলেও কিছুটা স্থান মারিয়ানা ট্রেঞ্চে থেকে যাবে ।

আপনি যদি মারিয়ানা ট্রেঞ্জ নিয়ে প্রতিবেদন পড়তে চান তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন । যাইহোক বৈজ্ঞানিকদের দল একটি মাছকে চারা হিসাবে ব্যবহার করে এক কিলোমিটার জলের নিচে রেখে দেয় ।

যেখানে একটি ক্যামেরা লাগিয়ে দেয় । বিজ্ঞানীরা আশা ছিল পুরনো কিছু প্রজাতির পাশাপাশি নতুন কিছু প্রজাতির জীবও দেখতে পাবেন ।

তারপর ক্যামেরায় ধরা পড়ে এমন কিছু যা বৈজ্ঞানিকদের করে স্তম্ভিত করে দেয় । প্রথমে কিছু অসাধারণ ও পরিচিত প্রজাতির মাছ দেখা যাচ্ছিল ।

তারপর আগমন ঘটে সেই মহাকায় হাঙ্গর মাছটির । বৈজ্ঞানিকদের অনুমান অনুযায়ী এই হাঙ্গরটি প্রায় ৬০ ফিট লম্বা ছিল ।

এই বিশাল শার্কটি কোন প্রজাতির প্রাণী তা নিয়ে বৈজ্ঞানিক মহেলে বৈঠক বসে যায় । কিন্তু এখনো এখনও জানা যায়নি এটি কোন প্রজাতির শার্ক ।

কিছু বৈজ্ঞানিক মত দিয়েছেন যে এটি হয়তো স্লিপ প্রজাতির শার্ক । কিন্তু স্লিপ প্রজাতির হাঙ্গর মাছ ২৩ ফিট পর্যন্ত লম্বা হয় ।

আবার কিছু বৈজ্ঞানিক বলেছেন ২৬ লক্ষ বছর প্রাচীন ম্যাগ্লাডোন প্রজাতির শেষ হাঙ্গর এটি । কারণ এত বড় বড় বিশাল শার্কের প্রজাতি আজ থেকে প্রায় ২৬ লক্ষ বছর পূর্বেই অস্তিত্ব ছিল এবং এখনকার বর্তমান যুগের শার্কের এরকম ভীমাকার আকার ধারণ করা প্রায় অসম্ভব বললেই চলে।


৫. নিউজিল্যান্ডের সমুদ্রের তীরে পাওয়া সমুদ্র দানব : Sea monsters in  New Zealand

২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের সমুদ্র তীরে একটি সমুদ্র দানবের নয় মিটার লম্বা মৃতদেহ দেখতে পাওয়া যায় । এই রহস্যটিও কিছুটা শাকলেন দ্বীপের অজ্ঞাত জীবটির মতনই ।

যাইহোক, এই সমুদ্রের দানবটি তখন জনসমুক্ষে ভাইরাল হয় । যখন এলিযাবেথ নামক এক মহিলা এর ফটো ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে এবং ইউটিউব এ আপলোড করে । ভিডিও লিংক https://youtu.be/46GtJJorxIg

এই ফটো ও ভিডিওগুলি বৈজ্ঞানিকদের ধাঁধায় ফেলে দেয় । এটির প্রায় অনেকটা অংশই সমুদ্রের বালির নিচে চাপা পড়ে থাকায় প্রাণীটিকে ঠিক ভাবে বোঝা যাচ্ছে না ।

কিন্তু একদল সামুদ্রিক জীব বৈজ্ঞানিক একে কিলার হুয়েল বা তিমির একটি প্রজাতি বলে আখ্যা দিতে চাইলেও সেটা প্রমানিত করা যায়নি ।

কারণ, এই প্রাণীর দাঁতের সাথে কিলার হুয়েলস এর সাদৃশ্য থাকলেও চোয়াল একেবারেই ভিন্ন আকার এবং আকৃতির ।

আবার একদল গবেষক মনে করেন যে, এটি আসলে কোন সামুদ্রিক জীবই নয়, এটি ক্ষরা জলের কোন ডলফিন বা কুমীরের কোন প্রজাতি হতে পারে । কিন্তু রহস্যের ব্যাপারটি হচ্ছে এই প্রাণী এখানে আসলো কিভাবে ?

Conclusion:

আপনার এই রহস্যময় জীবটি নিয়ে কী ধারণা তা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন । পাশাপাশি ম্যাগ্লাডোন শার্ক বা মারিয়ানা ট্রেঞ্চ নিয়ে প্রতিবেদন দেখতে চাইলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন এবং পাশাপাশি এই প্রতিবেদনটি শেয়ার করবেন ।

করোনাতে সুস্থ থাকবেন । ভালো থাকবেন ধন্যবাদ ।

Last line: ৫ টি রহস্যময় সামুদ্রিক প্রাণী, যা দেখে বিজ্ঞানীরা অবাক । 5 Most Mysterious & Unexplained Sea Creatures