ইঁদুর ! ইঁদুর এক ধরণের স্তন্যপায়ী ক্ষতিকারক প্রাণী । সারা পৃথিবীতে একজনও মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না, যিনি ইঁদুরের অত্যচারে কখনো না কখনো বিরক্ত হননি । বাসা-বাড়ি এবং ক্ষেত-খামারে ইঁদুরের উপদ্রপে অতিষ্ট জন জীবন। আমাদের আজকের টপিকের বিষয় কিভাবে ইঁদুর মারবেন ? How to kill rats?

ইঁদুর মারার পদ্ধতি? How to kill rats


কিভাবে ইঁদুর মারবেন ? How to kill rats? 

বাসা বাড়ির ইঁদুর কিছুটা নিয়ন্ত্রনে আনা গেলেও, নিয়ন্ত্রনে থাকেনা ক্ষেত-খামারের ইঁদুর। তাই ক্ষেতের ইঁদুর কিভাবে মারবেন তা নিয়ে আজকের প্রতিবেদন। প্রতিবেদনে আমরা গমের ক্ষেত থেকে ইঁদুর মারা পদ্ধতি আলোচনা করব। আপনি আপনার প্রয়োজনমত আমাদের তথ্য ব্যবহার করে ইঁদুর ধ্বংস করতে পারেন।

বিশ্বের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ লােকের প্রধান খাদ্য গম। দানাদার খাদ্য হিসাবে গম বাংলাদেশে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ইঁদুরের আক্রমনে গম ফসলে বছরে প্রায় ৪-১২% ক্ষতি সাধিত হয়ে থাকে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ১৮ প্রজাতির ইঁদুর দেখা যায়। এদের মধ্যে মাঠের কালাে ইঁদুর Lesser bandicoot rat, Bandicota benglensis (Gray) মাঠ ফসলে সব চেয়ে বেশি ক্ষতি করে থাকে। গম উৎপাদনে পােকা-মাকড়, রােগবালাই এর উপদ্রব থাকলেও অন্যতম অন্তরায় হচ্ছে ইঁদুর।

বীজ গজানাে থেকে শুরু করে গম কাটা পর্যন্ত মাঠে ইঁদুরের উপদ্রব দেখা যায়। গম ফসলে এরা কুশি বের হওয়া অবস্থা থেকে পরিপক্ক অবস্হা পর্যন্ত বেশি ক্ষতি করে থাকে। তবে ইঁদুর শীষ বের হওয়া অবস্থায় সবচেয়ে বেশী ক্ষতি করে থাকে।

শীষ বের হওয়ার শুরু থেকে কুশি কেটে গাছের নরম অংশের রস খায় ও পরে গাছ কেটে ও গম খেয়ে ফসলের ক্ষতি করে। গম যতই পরিপক্ক হতে থাকে ক্ষতির পরিমান ততই বাড়তে থাকে। ইদুর গাছ কেটে গমসহ শীষ গর্তে নিয়েও প্রচুর ক্ষতি করে থাকে। একটি ইঁদুর এক রাতে ১০০-২০০ টি পর্যন্ত কুশি কাটতে সক্ষম।


ইঁদুরের উপস্থিতির লক্ষণ সমূহ (Symptoms of the presence of rats)

মাঠ ফসলে, গুদামে, ঘরবাড়ি, মুরগীর খামার ও অন্যান্য স্থানে ইঁদুরের উপস্থিতির লক্ষণ সমূহ হলাে-শব্দ, মল/বিষ্টা, মূত্র, কর্তন, চলাচলের রাস্তা, পায়ের ছাপ, নােংরা দাগ, গর্ত, বাসা এবং কর্তনকৃত খাদ্য অবশিষ্টাংশ, পােষা প্রাণীর উত্তেজনা, ইঁদুরের গন্ধ।


ইঁদুর দমন ব্যবস্থাপনা (How to kill rats? )

ইঁদুর দমন পদ্ধতিকে প্রধানতঃ তিন ভাগে ভাগ করা যায়

  • ক) অরাসায়নিক দমন ও যান্ত্রিক কলাকৌশলের মাধ্যমে ইঁদুর দমন করা যেতে পারে। এ পদ্ধতির আওতায় রয়েছে
      • গর্ত খুঁড়ে দমন 
      • ইঁদুরের গর্তে পানি ঢেলে দমন
      • ইঁদুরের গর্তে মরিচের ধোয়া দিয়ে দমন
      • ফাঁদ ব্যবহার করে দমন (যেমন বাঁশের ফাঁদ, কাঠের, লােহার ও মাটির তৈরী বিভিন্ন ধরণের ফাঁদ ব্যবহার করে ইঁদুর দমন করা। 
      • বাের্ডে বা মেঝেতে ইঁদুরের খাবার রেখে চতুর্দিকে গ্লু বা আঠা লাগিয়ে রাখা - এক্ষেত্রে ইঁদুর খাওয়ার জন্য গ্লু-এর উপর দিয়ে যাওয়ার সময় আটকে যায়, আটকে পড়া ইঁদুরকে সহজেই মেরে মেলা যায়।

নিম্নলিখিতভাবে ইঁদুরের প্রকোপ কমানাে যায়

      • ক্ষেতের আইল ছােট (৬-৮”) রেখে। ফসল একই সময়ে লাগানাে ও কর্তন করা হলে।
      • ফসল সারিতে বপন করে এবং বেড পদ্ধতিতে আবাদ করে ইঁদুরের আক্রমন কমানাে যায়।

পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে:

      • বাড়ি-ঘর ও ক্ষেতের আশে পাশের ঝোপঝাড়, জলাশয়ের কচুরিপানা পরিস্কার করে।
      • প্রতিরােধক জাল ব্যবহার করে।
      • বিভিন্ন যান্ত্রিক উৎপীড়ক , মানুষের প্রতিকৃতি স্থাপন করে।
আরও পড়ুন... কখন সহবাস করলে সন্তান ধারণের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে । When intercourse is most likely to have children?
  • (খ) রাসায়নিক দমন - অনুমােদিত ইঁদুর নাশক ও তার বাণিজ্যিক নাম দেওয়া হলাে

ইঁদুরনাশকের ধরণ

ইঁদুরনাশকের জেনেরিক নাম

বানিজ্যিক নাম

ক. তীব্র বিষ

২% জিংক ফসফাইড বেইট

ফিনিক্স, র‌্যাট কিলার, র‌্যাট বুলেট, র‌্যাটক্স, র‌্যাটকিল, বিষ টোপ, ইবিচ, র‌্যাট-ফাইটার

খ. একমাত্রা বিষ

ব্রোডিফেকাম ০.০০৫%

ক্লের‌্যাট

ব্রোমাডিওলন ০.০০৫%

ল্যানির‌্যাট, ব্রোমাপয়েন্ট

গ. দীর্ঘমেয়াদী বিষ

ফ্লোকোমাফেন ০.০০৫%

ষ্ট্রম

ঘ. ফিউমিগ্যান্টস

অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইড ট্যাবলেট

এ্যালুফস, কুইকফিউম, এগ্রিফস, গ্যাস টক্সিন, সেলফস এবং ফসটক্সিন

ইদুর দমনের উপযুক্ত সময়:

    1. যে কোন ফসলের থােড় আসার পূর্বে। এ সময় মাঠে ইঁদুরের খাবার কম থাকে বিধায় ইঁদুর বিষটোপ সহজে খেয়ে থাকে।
    2. ঘর বাড়িতে সারা বছর ব্যাপী ও বর্ষার সময়।
    3. বর্ষার সময় রাস্তাঘাট ও বাধে (যখন মাঠে পানি থাকে)।
    4. গভীর ও অগভীর সেচের নালায় প্রথম পানি ছাড়ার দিন।

  • গ) জৈবিক দমন পদ্ধতি ও জীব দিয়ে ইঁদুর দমনের কৌশল এ পদ্ধতির অন্তর্ভূক্ত। বিভিন্ন ধরণের প্রাকৃতিক শত্রু যেমন-শিয়াল, বেজি, বন বিড়াল, সাপ, গুইসাপ, পেঁচা এসব দিয়ে ইঁদুর মারা যায়। ইঁদুর আক্রান্ত মাঠে বাঁশের আড় বেধে পেঁচা বসার ব্যবস্থা করে ইঁদুর দমন করা যায়। ইঁদুর ভােজী প্রাণীদের বংশ বিস্তারের যথাযথ ব্যবস্থা করে ইঁদুরের আক্রমন কমানাে যায়।

Conclusion:

কোন নির্দিষ্ট একক পদ্ধতি ইঁদুর দমনের জন্য যথেষ্ট নয়। ইঁদুর দমনের সফলতা নির্ভর করে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং বিভিন্ন সময়ােপযােগী পদ্ধতি ব্যবহারের উপর।

অতএব সম্মিলিত এবং সময়ােপযােগী দমন পদ্ধতি প্রয়ােগ করলেই জমিতে ইঁদুরের উপদ্রব কমানাে সম্ভব । আশা করি আমাদের আজকের কিভাবে ইঁদুর মারবেন ? How to kill rats? আলোচনা আপনার কাজে লাগবে ।